পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুZzp6Ss23UontNn uWNa96Ee x YE

Many areas remain flooded during the heavy rains brought by monsoon in West Bengal.
National Highway 31A winds along the banks of the Teesta River near Kalimpong, in the Darjeeling Himalayan hill region in West Bengal.

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় প্রকৃতির অর্থাৎ উষ্ণ ধরণের। এছাড়া এই রাজ্যের জলবায়ুর উপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। এজন্য পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়ে থাকে।

পরিচ্ছেদসমূহ

  • জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য
  • ঋতুচক্র
    • ২.১ গ্রীষ্মকাল
    • ২.২ বর্ষাকাল
    • ২.৩ শরৎকাল
    • ২.৪ শীতকাল
  • জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক
  • প্রভাব
  • তথ্যসূত্র

জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

  • ঋতু পরিবর্তন : পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে চারটি ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়। যথা: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল, শরৎকাল ও শীতকাল।
  • মৌসুমী বায়ুর প্রভাব : গ্রীষ্মকালে উষ্ণ-আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এবং শীতকালে শীতল ও শুষ্ক মৌসুমী বায়ু এই রাজ্যের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে বর্ষাকালে (গ্রীষ্মকালের শেষভাগ) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে এবং শীতকালে শুষ্ক ও শীতল জলবায়ু বিরাজ করে।
  • বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ : গ্রীষ্মকালে যে দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়, শীতকালে হয় ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে।
  • উত্তরপ্রান্তে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত : দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই রাজ্যের উত্তরপ্রান্তের পার্বত্য অঞ্চলে (দার্জিলিং হিমালয়ের পাদদেশে) প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।
  • উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের তুলনায় রাজ্যের বাকী এলাকার জলবায়ু সমভাবাপন্ন : দার্জিলিং হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল-এ ভূমির উচ্চতা বেশি বলে গ্রীষ্মকাল মনোরম, কিন্তু শীতকাল অত্যন্ত তীব্র

পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট সমভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্য খুব বেশি হয় না। তবে পশ্চিমের পুরুলিয়া জেলায় শীত-গ্রীষ্মের তাপের পার্থক্য সমভূমি অঞ্চল থেকে বেশি।[১]

ঋতুচক্র[সম্পাদনা]

বছরের বিভিন্ন সময়ে উষ্ণতার তারতম্য, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বায়ুপ্রবাহের বৈচিত্র্য প্রভৃতি লক্ষ্য করে আবহতত্ত্ববিদগণ পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে চারটি প্রধান ঋতুতে ভাগ করেছেন। যথা: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল, শরৎকাল ও শীতকাল।

গ্রীষ্মকাল[সম্পাদনা]

মার্চ মাসের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত এর স্থায়ীত্ব। গ্রীষ্মকালের আগে পশ্চিমবঙ্গের কোনও কোনও অঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বসন্ত ঋতুর আবির্ভাব ঘটে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে ৩৮ °সে (১০০ °ফা) থেকে ৪৫ °সে (১১৩ °ফা) পর্যন্ত।[২] তবে, দার্জিলিং হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির উচ্চতা বেশি বলে গ্রীষ্মকাল মনোরম। মে মাসে মাঝে মাঝে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে কালবৈশাখী নামক ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাবের ফলে ঝড়বৃষ্টি হয় এবং গরম অনেকটা কমে যায়।[৩]

বর্ষাকাল[সম্পাদনা]

জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ পর্যন্ত বর্ষাকাল। বর্ষাকালে দক্ষিণের বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ-আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সারা রাজ্যে বৃষ্টিপাত হয়, কোথাও কম কোথাও বেশি। বার্ষিক ১৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের ১২৫ সেন্টিমিটার এই সময় বর্ষিত হয়। রাজ্যের উত্তরভাগে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় ২৫০ সেন্টিমিটার।

শরৎকাল[সম্পাদনা]

অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যভাগ পর্যন্ত শরৎকালের স্থায়ীত্ব। এই সময় আকাশ মেঘমুক্ত হয় এবং অপেক্ষাকৃত মনোরম আবহাওয়া বিরাজ করে। তবে এসময় মাঝে মাঝে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়, একে আশ্বিনের ঝড় বলা হয়। এই ঋতুর শেষে বাতাসে ক্রমশ হিমেল ভাব দেখা দেয়।

শীতকাল[সম্পাদনা]

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতকাল স্থায়ী থাকে। জানুয়ারি শীতলতম মাস। তাপমাত্রা সর্বনিম্ন গড়ে ৯°-১৬° সেন্টিগ্রেড থাকলেও রাজ্যের উত্তরভাগে তাপমাত্রা আরও কমে যায়। কোন কোন সময় ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমা ঝঞ্ঝার সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।

জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক[সম্পাদনা]

  • কর্কটক্রান্তি রেখা : পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান ও নদিয়া) পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর) বিস্তৃত থাকায় এই রাজ্যের অধিকাংশ স্থান (দার্জিলিং হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া) উষ্ণভাবাপন্ন।
  • মৌসুমী বায়ু : বর্ষাকালে দক্ষিণের বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ-আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সারা রাজ্যে বৃষ্টিপাত হয়, কোথাও কম কোথাও বেশি। শীতকালে উত্তরভাগের ঠান্ডা স্থলভাগ থেকে আসা উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে ঠান্ডা পড়ে। এই বায়ুপ্রবাহ শুষ্ক থাকে বলে বৃষ্টিপাত বিশেষ হয় না।
  • ভূমির উচ্চতা : ভূমির উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে।

পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি অঞ্চলের তুলনায় দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চতা বেশি বলে উষ্ণতাও এই অঞ্চলে অনেক কম।

  • সামুদ্রিক প্রভাব : সমুদ্রের প্রভাবের জন্য এই রাজ্যের দক্ষিণ ভাগের জলবায়ু প্রায় সমভাবাপন্ন; শীত ও গ্রীষ্ম কোনটাই তীব্র নয়।
  • পর্বতের প্রভাব : পশ্চিমবঙ্গের উত্তর সীমান্তে হিমালয় পর্বতশ্রেণী পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত থাকায় একদিকে যেমন আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এতে বাধা পেয়ে এই রাজ্যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তেমনি উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুও হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় বলে পশ্চিমবঙ্গে শীত কম পড়ে।[৪]

প্রভাব[সম্পাদনা]

বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে পশ্চিমবঙ্গের সমভূমিতে বেশিরভাগ শস্য উৎপাদন হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু ধান ও পাট চাষের পক্ষে আদর্শ। এছাড়া ডাল ও তৈলবীজের ফলন ব্যাপকভাবে হয়। দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে চা-এর উৎপাদন উন্নতমানের এবং স্বাদে-গন্ধে জগৎ-বিখ্যাত।

পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ঋতুতে রথযাত্রা, দোল উৎসব, দুর্গাপূজা, ঈদ-উল-ফিতর,বড়দিন (খ্রীস্টমাস), নবান্ন ইত্যাদি পালিত হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ভূ-পরিচয়, ড. গৌতম মল্লিক,দীপ প্রকাশন,কলকাতা-৭০০০০৬
  2. "Climate"। West Bengal: Land। Suni System (P) Ltd। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-০৫ 
  3. "kal Baisakhi"। Glossary of Meteorology। American Meteorological Society। ২০০৬-০৮-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-০৫ 
  4. আধুনিক ভূগোল, ভট্টাচার্য ও বসু, প্রথম খন্ড, নব পর্যায়।

Popular posts from this blog

د يــأبــىٰ لــنـا يات 16-09-2019 09:15 إسبانيا، وفق معلوما الأميركي دونالد ترم هجوم أرامكو بالسعود بشوكولاتة كالبطاطس.يوهات الجنسية أجبرنية غسيل الأموال

ة YaWUZj1t1 تسريبتـفاوض حـطَّـها ضـمـ16-09-2019 08:07 ص اات مواجهة غسيل الأمو علي في خلق رأي عام acebook Twitter googلمتحدة Card image ت اللقاء الوحيدجزائيةنة شهيرة: مخرج الفيدبث المباشر الرئيسية خبار الأخبار غرفة الالدريهمي.. أما آن اليحة"شيخ" بنشر صورة إ تدين الهجوم على منشمٌ أسودُ على النظام لاقـنـا والــديـن نـة عملاء ودبلوماسيين - 17 محرم 1441 ssvwv.com